নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ প্যাকেজিং অ্যান্ড অ্যাক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএএমইএ) ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচন স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব আশরাফুল সিদ্দিক স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সিদ্ধান্তটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া এক পক্ষের করা এক পৃথক আবেদন পর্যালোচনার পর নেয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, এফবিসিসিআই প্রতিনিধির মতামত ও প্রাসঙ্গিক নথিপত্র পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে আবেদনকারীকে বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ২০ ধারায় বলা অনুযায়ী এফবিসিসিআইয়ের আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করার পরামর্শ দেয়া হলো। ওই আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনালে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত থাকবে; তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি আবেদনকারী অভিযোগ না দায়ের করেন তাহলে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে না। চিঠির আগে নির্বাচনে ২৭ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে ছয় সহ-সভাপতি ও ১৫ পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন, আর আগামী শনিবার এক জন সভাপতিত্ব প্রার্থী এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ পরিচালক পদে ভোট হওয়ার কথা ছিল।
প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী হিসেবে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ও আদজি ট্রিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহরিয়ার — তিনি ঐক্য পরিষদের প্যানেল লিডার — এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রিটানিয়া লেবেল বিডি লিমিটেডের এমডি জামিল আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছিলেন; বাকিদের অধিকাংশ ঐক্য পরিষদের মধ্যে রয়েছেন। জানা গেছে, ৭ জুলাই জামিল আহমেদ ও পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল পৃথকভাবে বাণিজ্য সংগঠনের মহাপরিচালকের কাছে অভিযোগ করেন যে বিধিমালার বিপরীতে কয়েকজন পরপর মেয়াদে দায়িত্বপূর্ণ থাকায় তারা ভোটে অংশগ্রহণ করতে আর উপযুক্ত না এবং কিছু ঋণখেলাপিও প্রার্থী তালিকায় আছে। পূর্বে একই অভিযোগ নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ডে করেও আপিল বোর্ড তা খারিজ করে সংশ্লিষ্ট মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিল।
নির্বাচন স্থগিতের পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ঐক্য পরিষদের প্যানেল লিডার ও সভাপতি প্রার্থী মো. শাহরিয়ার বলেন, ব্যবসায় এই সংকটময় সময়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন আয়োজনে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, মন্ত্রণালয়ের শুনানিতে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে তাদের কাউকে ডাকা হয়নি এবং আর্জিদাতাদের মন্ত্রীপরিষদীয় পরামর্শে এফবিসিসিআই তে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও অভিযোগপ্রাপ্তদের মতামত সেখানে নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে; এ বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।