পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার হস্তক্ষেপে গত দুই দিনে কমপক্ষে ৩০ জন নিহত হয়েছে—স্থানীয় নাগরিক সংগঠন জেএএসি’র বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্য দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে। জেএএসি বলছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া হাজারো বিক্ষোভকারীর ওপর সরাসরি গুলি চালিয়ে সোমবার (২৭ জুলাই) ২৫ জন এবং মঙ্গলবার আরও পাঁচজন নিহত হন।
তবে অঞ্চলজুড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা ও গণমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে দ্য গার্ডিয়ান জানায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং সেখানে পাকিস্তানের নিজের সংবাদমাধ্যম থেকেও এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা পাওয়া যায়নি। গত জুন থেকে চলা এই আন্দোলনের মধ্যেই প্রশাসন ইন্টারনেট বন্ধ করে যোগাযোগ সীমিত করে এবং ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান চালিয়েছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলে তথ্যপ্রবাহ বন্ধের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার আহ্বান জানায়।
জেএএসি ও তাদের সমর্থকরা নির্বাচনি সংস্কারের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে আছে এবং তারা অভিযোগ করছে, পাকিস্তানে থাকা ভারতীয় কাশ্মীরি শরণার্থীর জন্য সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থার ফলে বহিরাগতরা অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ দখল করছে। আন্দোলনের মাঝেই ২৭ জুলাই প্রথম ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের মুখপাত্র এস এ খান দাবি করেছেন, মিরপুরে নিহতদের লাশ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ও হাসপাতাল অবরুদ্ধ করে তথ্য-প্রমাণ মুছে ফেলা হচ্ছে; তাদের কাছে রাস্তায় পড়ে থাকা মরদেহের ছবি ও ভিডিও রয়েছে বলে বলা হয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বেসামরিক নিহতের কথা অস্বীকার করে এর পেছনে ভারতীয় অর্থ ও উসকানির কথা বলেছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান (জাগো নিউজ২৪)।