মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সৈন্যদের লক্ষ্য করে ইরানের পক্ষ থেকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রীয় সামরিক বাহিনী। সেন্ট্রাল কমান্ড এক্স-এ প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রীয় সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একটি আকস্মিক হামলার অংশ হিসেবে কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে; নিরাপত্তা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য আকাশেই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের সূত্রে জানা গেছে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি ছিল এই আঘাতের প্রধান লক্ষ্যবস্তু বলে মনে করা হচ্ছে, এবং বিশ্লেষকরাও বলছেন ঘটনাটি দুদেশের উত্তেজনা তীব্র করেছে।
গত কয়েক সপ্তাহে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা বাড়ছে—যুক্তরাষ্ট্র নৈশ হামলা পরিচালনা করায় ইরান পাল্টা গালফ বা পারস্য উপসাগরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করেছে। যদিও গত সপ্তাহে উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে গোলাবারুদ বন্ধ রাখে, সংঘাতের মূল কাঁচি বর্তমানে স্ট্রেইট অফ হরমুজে, যেখানে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সঙ্কীর্ণ এই জলপথ দিয়ে যেতে হয়। ইরান দাবি করে এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলিকে তাদের নির্ধারিত উপকূলীয় রুট অনুসরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে ফি ধার্য করার অধিকার তাদের আছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রীয় নৌবাহিনী ওমান উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণি পথ ধরে ব্যাকআপ রুট ব্যবহার করায় কিছু জাহাজ আঘাতের শিকার হয়।
এ ঘটনার পর দ্রুত পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়: ২৯ জুলাই ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকে অবস্থানরত ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালায়, যেগুলোকে সৌদি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ইরাকি ভূখণ্ড কোনো পক্ষকে মিত্র দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের লঞ্চপ্যাড হতে দেবে না। অভিযুক্ত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো ঘটনার সব দায় অস্বীকার করেছে এবং সমন্বিত ফ্রন্ট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যা দিয়েছে; তারা হুথিদের কার্যক্রমের দিকে ইঙ্গিত করেছে যারা ওই হামলার দায় স্বীকার করেছিল। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, Jagonews24।