আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সময় দায়িত্ব গ্রহণ করা ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দিন রাজনীতি বেশ উস্কানিমুখে কাটলো। দেশে রাজনৈতিক বিভিন্ন দল ও মহল থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসে—জামায়াতে ইসলামী বলেছে দেরিতে হলেও স্বৈরাচারের ছায়া কেটে গেছে, এনসিপি তার গ্রেফতারের দাবি তুলেছে, আর বিএনপি অপেক্ষাকৃত স্বস্তি প্রকাশ করেছে ও এখন এমন একজন দায়িত্বশীল ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চায়। পদত্যাগের পর থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—বিএনপি প্রথম থেকেই দলের ভেতর থেকেই প্রার্থী আনতে আগ্রহী বলে জানান দলীয় নেতারা। দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তারা জানিয়েছে। দলের তৃণমূল ও শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা আছে; এছাড়া ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমানের নামও উল্লেখ করা হচ্ছে। যে তালিকায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নামও স্থান পেয়েছে।
বিএনপির একটি অংশ মনে করে রাষ্ট্রপতির পদে দলের প্রতি বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত কোনো নেতাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে সংসদের সদস্যদের ভোটে এবং সংসদে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলীয় মনোনীত প্রার্থী স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে থাকবে; তিনি আরও বলেন রাষ্ট্রপতি হওয়া উচিত এমন ব্যক্তি যিনি দলের নীতি ও নেতা-দ্বয় জিয়ার ও খালেদা জিয়াসহ দলের আদর্শের অনুগামী। স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত থাকবেন ও মনোনয়ন, নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিষয়টি জাতীয় সংসদের ভোটে নিষ্পত্তি হবে। তবে রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দলীয় শিবিরের বাইরের কোনো গ্রহণযোগ্য অরাজনৈতিক ব্যক্তির সম্ভাবনাও পুরোপুরি অস্বীকার করা যাচ্ছে না; শেষ সিদ্ধান্ত নেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন স্থায়ী কমিটি।