দেশজুড়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার নীতিমালা ও সঠিকতার বিরুদ্ধে তীব্র কড়া আক্রোশ দেখা দিয়েছে। নীট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস, ফলাফলে জালিয়াতি ও কোটি কোটি টাকার প্রশ্নবাণিজ্যসহ জাতীয় পরীক্ষানুষ্ঠানগত ব্যর্থতার অভিযোগে রাজধানী ভুবনেশ্বর থেকে দিল্লি, রাজস্থান, বিহার, মুম্বাই, কলকাতা ও হায়দরাবাদ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পথে নেমেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও সড়কে সংগঠিত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)–র আন্দোলন এখন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে সরাসরি ইস্তফার দাবি জোরালোভাবে তুলছে; আন্দোলনকারীরা মন্ত্রীর পদত্যাগ না হলে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্তেই পদত্যাগ চাওয়ার হুমকি দিয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক সূত্রপাত ছিল ছাত্র আন্দোলন থেকেই। ২৬ জুন ১৯৬৯ সালে ওড়িশার তালচের জেলার এক রাজনীতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া তিনি দেবেন্দ্র প্রধানের সন্তান; তার পিতা ছিলেন বিজেপির প্রতিষ্ঠিত নেতা ও বাজপেয়ীর সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। উড়িষ্যার উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃতত্ত্বে স্নাতকোত্তর করতে গিয়ে আরএসএস‑সংশ্লিষ্ট এবিভিপি‑র মধ্য দিয়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন এবং পরে দলের সার্বজনীন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৭ সালে ভুবনেশ্বরে প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় পুলিশের লাঠিচার্জে তিনি গুরুতর আহত হন—তার পরে ২০০০ সালে কেবল ত্রিশ বছরের বয়সে বিধায়ক হন এবং ২০০৪ সালে দেবগড় থেকে লোকসভায় জয়ী হয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পা রাখেন।
মোদী সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ে কাজ করেছিলেন এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প উজ্জ্বলা যোজনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করে ২০১৭ সালে মন্ত্রীপরিষদে প্রবেশ করেন। ২০২১ সালে শিক্ষাportfolio-এর দায়িত্ব পেয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনে সম্বলপুর থেকে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে ফের কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ে বসেন। কিন্তু ২০২৬ সালের মে‑জুনে নীট কেলেঙ্কারির বিস্ফোরণে তার ক্যারিয়ারের এটাই সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সঙ্কট: বিভিন্ন রাজ্যে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন বিক্রির কথার অভিযোগ, কিছু স্তরে আত্মহত্যার ঘটনা ও সিবিএসই‑র মূল্যায়ন নিয়ে সন্দেহ ধর্মেন্দ্রকে সরাসরি অভিযুক্ত করে। প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত নেবার পেছনে দলীয় সংগঠন রক্ষার রাজনৈতিক হিসাব ও আন্দোলনকে আত্মসমর্পণ হিসেবে দেখা যাবে এমন আশঙ্কা প্রভাব ফেলেছে। সরকার দ্রুত ফাস্ট‑ট্র্যাক বিচার প্রসঙ্গে আশ্বাস দিলেও সড়কে থাকা ছাত্রশিবির ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া শান্তি চান না; এখন দেখা বাকি তিনি এই রাজনীতিক ঝড় সামলাতে পারবেন কি না।