আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোববার ময়মনসিংহের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিতে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার একটি সুপরিকল্পিত রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন, শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীতে ইংরেজি বিষয়ে কেবল লিখিত পরীক্ষা নয়, বরং কথা বলার দক্ষতা যাচাইয়ে ‘স্পিকিং টেস্ট’ চালু করা হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইউনিক আইডি’ প্রদান, প্রতিটি বিদ্যালয়ে উন্নত ওয়াশ ব্লক নির্মাণ এবং পুষ্টিকর মিড-ডে মিল নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া রোধে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ বিতরণের পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। বিদ্যালয়গুলোকে কেবল সরকারি ভবন হিসেবে না দেখে স্থানীয়দের নিজেদের সম্পদ হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে একটি কার্যকর ও আধুনিক শিক্ষাকেন্দ্রে রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।