দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে পরীক্ষার্থীর নাম ও রোল গোপন রেখে ‘কোডিং’ পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের প্রচলন বাড়ছে। কিন্তু এই আধুনিক ধারা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। সেখানে সনাতন পদ্ধতিতে উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর দৃশ্যমান রেখেই মূল্যায়ন করা হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এর ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পূর্বের বিরোধ খাতা মূল্যায়নের ওপর প্রভাব ফেলার সুযোগ থাকে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, নাম ও রোল দৃশ্যমান থাকার কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা পক্ষপাতদুষ্ট মূল্যায়নের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে থাকছেন। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও দ্রুত কোডিং সিস্টেম চালুর দাবি তুলেছেন তারা। তাদের মতে, এটি কেবল অস্বচ্ছতাই দূর করবে না, বরং মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার ওপর শিক্ষার্থীদের আস্থাও ফিরিয়ে আনবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান নিয়মে কোনো শিক্ষার্থী অসন্তুষ্ট হলে তা অ্যাকাডেমিক কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখার সুযোগ রয়েছে। যদিও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাতা পুনর্মূল্যায়নের কোনো স্বচ্ছ বা কার্যকর ব্যবস্থা সেখানে নেই। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) জানিয়েছে, কোডিং পদ্ধতি নিয়ে আগামীতে উপাচার্যদের সঙ্গে আয়োজিত কর্মশালায় আলোচনা করা হবে।