সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফলে কারসাজি ও উত্তরপত্র পরিবর্তনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষার সময় ‘ফেল করিয়ে দেওয়ার’ হুমকি পাওয়ার পর কয়েকটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় ওএমআর (OMR) শিট পরিবর্তনের মাধ্যমে ফলাফল প্রভাবিত করার দাবি করেছেন এক শিক্ষার্থী। ধর্মপুর এসআইডি ভোকেশনাল অ্যান্ড কারিগরি কলেজের ওই শিক্ষার্থীর নাম মো. আল-রিশাদ মুগ্ধ (রোল: ১৬১৩১৭, রেজিস্ট্রেশন: ২৭২৪১২১৬৬০)। এ বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার সময় কক্ষের দায়িত্বে থাকা কিছু শিক্ষক তাকে ফেল করানোর হুমকি দেন। এমনকি ফরম পূরণের সময়ও তাকে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল। পারিবারিক বিরোধের জেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ একটি চক্র এই ষড়যন্ত্রে জড়িত বলে অভিযোগ তার। তার সন্দেহ, পরীক্ষার পর কেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র সংরক্ষণ ও বোর্ডে পাঠানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে ওএমআর শিট কৌশলে বদলে ফেলা হয়েছে।
তবে প্রকাশিত মার্কশিট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এক অদ্ভুত চিত্র। পদার্থবিজ্ঞানে ১৭৫-এ ১৪২ (এ+), রসায়নে ১৭৫-এ ১৪০ (এ+), কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে ১০০-তে ৯০ (এ+) পাওয়ার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে তিনি চমৎকার নম্বর পেয়েছেন। অথচ বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়—এই চারটি বিষয়ে তিনি অকৃতকার্য হয়েছেন।
এতগুলো বিষয়ে জিপিএ-৫ ও এ গ্রেড অর্জনের পরও নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ফেল করার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন শিক্ষার্থীর পরিবার ও খোদ শিক্ষকরাও। ইংরেজি শিক্ষক মো. রিয়াজুর ইসলাম ও গণিত শিক্ষক দীপংকর চন্দ্র জানিয়েছেন, আল-রিশাদ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র, তার এভাবে ফেল করার কথা নয়। শিক্ষার্থীর বাবা মুকুল মিয়ার অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতার জেরে তার ছেলের বোর্ডে পাঠানো খাতায় সাদা খাতা জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ধর্মপুর এসআইডি ভোকেশনাল অ্যান্ড কারিগরি কলেজের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মোছা. মনজুয়ারা বেগম ব্যস্ততার অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং পরবর্তীতে একাধিকবার কল করলেও ফোন রিসিভ করেননি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন জানান, বিষয়টি তার জানা আছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা মিললে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।