নিজস্ব প্রতিবেদক: শেখ মোঃ কামরুজ্জামান
গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি বনভূমি ও খাসজমি জবরদখল এবং গাছ কেটে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের আটকে রেখে হেনস্তা ও মুচলেকা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মাসুদ রানা।
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীরা জানান, সম্প্রতি ওই এলাকায় বন ও খাসজমির অবৈধ দখল এবং গাছ কাটার সত্যতা যাচাইয়ে গেলে তাদের ওপর বাধা আসে। একপর্যায়ে তাদের ঘেরাও করে স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করা হয়, যা একপর্যায়ে মব বা জনরোষের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
অভিযোগ রয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ হিসেবে তকমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে নানামুখী চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মুচলেকা আদায় করা হয়।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিক নেতারা বলেন, কোনো সংবাদকর্মীর পরিচয় নিয়ে সংশয় থাকলে তা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম, প্রেসক্লাব কিংবা প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করার আইনি বিধান রয়েছে। কিন্তু তথ্য সংগ্রহের সময় এভাবে আটকে রেখে হেনস্তা বা চাপ প্রয়োগ করা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়।
এদিকে স্থানীয় এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় সরকারি সম্পত্তি জবরদখল ও নির্বিচারে গাছ কেটে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চক্রান্ত চলছে। তারা অবিলম্বে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকরা যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে না পড়েন, তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ রানার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মন্তব্য পেলে পরবর্তীতে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বাধীনভাবে তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার রোধেও প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি পথ অনুসরণ করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কাম্য নয়।