শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৪ অপরাহ্ন
Title :
উন্নয়নকাজের জন্য ৬ মাসের আলটিমেটাম প্রতিমন্ত্রী হাবিবের বৃষ্টিতে বালু-কাদায় নাকাল মজুচৌধুরীর হাট ফেরিঘাট, দুর্ভোগে যাত্রী-চালকেরা গণপরিবহনে কাল থেকে জিপিএস বাধ্যতামূলক যে কারণে থমকে যেতে পারে গ্যাস সরবরাহ ১৭ বছর পর অবসান: ডিমলার শহীদ জিয়াউর রহমান কলেজে নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধন বান্দরবানে হাম রোগীদের জরুরি চিকিৎসায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আর্থিক সহায়তা বাঁশখালীতে মাছের ঘের দখল নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১ ও আহত ২ বান্দরবানে পর্যটকবাহী মোটরসাইকেল খাদে পড়ে নারীসহ নিহত ২ শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ঢাকার অনুরোধ খতিয়ে দেখছে দিল্লি জুলাই সনদের আলোকে আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হবে

শীতকালে ভোরে ঘুম থেকে ওঠা কঠিন কেন?

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০১ Time View
136

শীতকাল এলেই ভোরের ঘুম থেকে ওঠা কঠিন হয়ে পরে। অ্যালার্ম বাজলেও তা উপেক্ষা করে অনেকে ঘুমিয়ে পরেন। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে কর্মজীবী মানুষ, শীতের সকালে ঘুম থেকে উঠতে প্রায় সবাইকেই বেগ পোহাতে হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালে এ সমস্যার পেছনে রয়েছে শরীর ও মনের স্বাভাবিক কিছু পরিবর্তন যা ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে সক্রিয় হয়। স্বাভাবিকভাবেই মানবদেহ ঠান্ডা আবহাওয়ায় শক্তি সঞ্চয় করতে চায়। শরীরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে বিপাকক্রিয়ার গতি কমে যায়। ফলে অবসন্নতা ও ঘুমভাব বেড়ে যায়, যা সকালে দ্রুত সতেজ হতে বাধা সৃষ্টি করে। এ জৈবিক প্রতিক্রিয়ার কারণেই শীতকালে ভোরে ঘুম ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দেরিতে ঘুম ভাঙ্গার আরও কিছু কারণ রয়েছে।

ছোট দিন, বড় রাত

শীতকালে দিন ছোট হয় এবং রাত দীর্ঘ হয়। সূর্য দেরিতে ওঠায় দিনের আলো খুব কম পাওয়া যায়। এ কম আলো শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবঘড়ির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যালোকের অভাবে শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এ হরমোন ঘুমের জন্য দায়ী, যার ফলে সকালে ঘুম ভাঙতে দেরি হয়।

ভিটামিন ডি এর ঘাটতি

শীতকালে পর্যাপ্ত সূর্যালোক না পাওয়ায় অনেকের শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দেখা দেয়। এই ভিটামিন শুধু হাড়ের জন্যই নয়, শরীরের শক্তি ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে ক্লান্তি, অবসন্নতা ও হালকা বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে, যা ভোরে ঘুম থেকে উঠা কঠিন করে তোলে।

 

শীতকালে অনেকেই বেশি ভাজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার খান। এসব খাবার হজমে সময় লাগে, ফলে ঘুম গভীর হলেও সকালে শরীর অলস করে তোলে। এ ছাড়া রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার বা টিভি দেখার প্রবণতা ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করে, যার ফলে সকালে ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়।

ঠান্ডার কারণে হাঁটাচলা ও ব্যায়াম কমে যায়। শারীরিক কার্যকলাপ কম হলে শরীরের শক্তিও কমে, ফলে সকালে সতেজ বোধ করা কঠিন হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা শীতকালেও হালকা ব্যায়াম চালিয়ে যান, তুলনামূলকভাবে ভোরে উঠতে তাদের কম সমস্যা হয়।

মানসিক প্রভাব

কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল, মেঘলা আকাশ ও বাইরে যাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় অনেকের মধ্যে মন খারাপের অনুভূতি দেখা দেয়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শীতকালে মানসিক চাপ বা মনমরা ভাব থাকলে ভোরে ওঠার আগ্রহ কমে যায়, বিশেষ করে যারা আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শীতকালে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রেখে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

রাতে একটু আগেভাগে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে স্ক্রিন টাইম কমানো, শাকসবজি, ডাল ও স্যুপের মতো হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, আগের রাতেই কাপড় প্রস্তুত রাখা এবং ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখার ব্যাপারেও তারা পরামর্শ দেন। এসব অভ্যাস শীতের সকালে ঘুম থেকে ওঠাকে তুলনামূলকভাবে সহজ করে তুলতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com