সড়ক পরিবহণ ও রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, মান্ডার গ্রিন মডেল টাউনের উন্নয়নে হাউজিং কোম্পানিকে ছয় মাস সময় দেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে উন্নয়নকাজ করতে ব্যর্থ হলে এলাকার মানুষের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর মান্ডার গ্রিন মডেল টাউনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, পরিবেশ রক্ষার মাধ্যমে শিশুদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। তার অংশ হিসেবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে তারা দায়িত্ব পালন করছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা শুধুমাত্র আপনাদের এমপি হিসেবে না, আপনাদের জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে এসেছি। আজকের এই সরকারকে জনগণ মনে করে, এটি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকার। সুতরাং এই সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে অবশ্যই আমি আপনাদের জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে সব সময় বাধ্য।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-৯ ও বাংলাদেশকে গড়ে তোলা এবং ঢাকা-৯ এর মানুষের সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়ন করাই আমাদের কাজ। রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়; জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবা দেওয়ার জন্যই আমরা নির্বাচিত হয়েছি।
গ্রিন মডেল টাউনসহ কিছু আবাসিক এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতায় আনার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকার সব আবাসিক হাউজিং এলাকা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে এসব এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু গ্রিন মডেল টাউনসহ কিছু হাউজিং কোম্পানি চায় না এসব এলাকা সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হোক এবং সিটি করপোরেশন এসব এলাকায় সেবা ও উন্নয়ন করুক। এ কারণে এলাকার উন্নয়ন বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
হাউজিং কোম্পানির কর্মকর্তাদের উদ্দেশে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘এখন এই এলাকার উন্নয়ন আপনারা করেন। আর যদি আপনারা এই এলাকার উন্নয়ন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমরা বাধ্য হবো এই এলাকার মানুষের উন্নয়ন করার জন্য যে কাজগুলো করা প্রয়োজন, সেই কাজগুলো আমরা করব।’
তিনি বলেন, বিগত দিনের সরকারগুলোর জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না, কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ছিল না। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হওয়ায় জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতা রয়েছে।
হাউজিং কোম্পানির উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই বছরের মধ্যে যদি আপনারা আপনাদের কাজগুলো করতে ব্যর্থ হন, তাহলে আমরা আমাদের জনগণকে নিয়ে এই এলাকার উন্নয়ন করার জন্য যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, আমরা সেই পদক্ষেপগুলো নিতে বাধ্য হবো।’
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে শুনেছি, এই এলাকার উন্নয়নের জন্য আপনারা ৩৮ কোটি টাকা নিয়েছেন, এই এলাকার যারা জমির মালিক রয়েছেন তাদের কাছ থেকে।’
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের একটি খেলার মাঠ, একটি কবরস্থান, রাস্তা ও কাঁচাবাজার প্রয়োজন। এসব কাজ হাউজিং কোম্পানির করা উচিত।
এলাকার অভ্যন্তরীণ পরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে হাবিব বলেন, এলাকার বিভিন্ন কমিটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিজস্ব ড্রেস দিয়ে নিজস্ব পরিবহণের ব্যবস্থা করতে পারে। অন্যান্য হাউজিং কোম্পানিগুলো এমন ব্যবস্থা করেছে। গ্রিন মডেল টাউনেও পরীক্ষামূলকভাবে এ ধরনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
ময়লা সংগ্রহের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী এক মাস পর তিনি দেখবেন, প্রতিটি ঘর থেকে ময়লা বাবদ ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে কিনা। যারা ১০০ টাকা করে ময়লার বিল নেবেন, তাদের বরাদ্দ বাতিল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, এই এলাকা সিটি করপোরেশনের আওতাধীন নয়, অনেকে বলতে পারেন। কিন্তু এই এলাকার মানুষ হোল্ডিং ট্যাক্স দেয়। সুতরাং আমার দলের হোক আর যে-ই হন, সিটি করপোরেশনের যে নিয়ম, সেই নিয়ম অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে ময়লার টাকা সংগ্রহ করবেন। অতিরিক্ত কোনো টাকা সংগ্রহ করা যাবে না।