বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির হাতে ন্যস্ত করার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার রাতে তার দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেবল পর্যালোচনার কাজ করছে। কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে মন্ত্রীর এই দাবির বিপরীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভার নথিপত্র ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। গত ৩ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, এনটিআরসিএ আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করবে না এবং এই দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে। সভার কার্যবিবরণীতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ১৮তম নিবন্ধনে উত্তীর্ণদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
মন্ত্রণালয়ের এমন সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক সংগঠন এবং রাজনৈতিক দলগুলো এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র জনরোষ ও সমালোচনার মুখে চাপের মুখে পড়ে মন্ত্রী এ ধরনের বিবৃতি দিতে বাধ্য হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত সরকার হয়তো এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে।