সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ
জন্ম থেকেই দুই পা ও একটি হাত অচল। উচ্চতাও তিন ফুটের কম। শত প্রতিকূলতা ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মোছা. শাহানাজ পারভীন। সব বাধা পেরিয়ে কামিল পাস করলেও উপযুক্ত চাকরির অভাবে বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কেকৈ কাশদহ গ্রামের দরিদ্র কৃষক মুসলিম আলীর চার কন্যার মধ্যে শাহানাজ সবার ছোট। বাকি তিন বোন সুস্থ ও স্বাভাবিক থাকলেও শাহানাজ জন্ম নেন প্রতিবন্ধকতা নিয়ে। তবে থেমে থাকেননি তিনি। শুধু বাম হাতের ওপর ভর দিয়ে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা। এভাবেই ২০১১ সালে দাখিল, ২০১৩ সালে আলিম, ২০১৮ সালে ফাজিল এবং ২০২২ সালে সফলতার সাথে কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন। এমনকি নিজের দৈনন্দিন সব কাজও তিনি বাম হাত দিয়েই সম্পন্ন করেন।
পড়াশোনা শেষ করে একটি সম্মানজনক চাকরি নিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন ছিল শাহানাজের। বয়স এখন ৩১ বছর। কয়েকবার চাকরির আবেদন করেও কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাননি। প্রায় দুই বছর আগে বিয়ে হলেও স্বামীর অবস্থাও অসচ্ছল হওয়ায় মূলত বাবার বাড়িতেই দিন কাটছে তাঁর। স্বামীর সংসারে বছরে বড়জোড় এক-দুবার যাওয়া হয় তাঁর।
শাহানাজ পারভীন আক্ষেপ করে জানান, পড়াশোনা শেষে একটি চাকরি করার তীব্র ইচ্ছা ছিল তাঁর। অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। একটি কর্মসংস্থান পেলে তিনি যেমন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারতেন, তেমনি তাঁর দরিদ্র পরিবারকেও সাহায্য করতে পারতেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর মতে, শাহানাজের অদম্য জেদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়, তবে তিনি সমাজের বোঝা না হয়ে বরং আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারবেন।