গাড়ি নিয়ে লং মার্চ বা বড় ধরনের শোভাযাত্রার মাধ্যমে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো জটিল সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হলে, বর্তমান সরকার নিজেই সবার আগে এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করত। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে এই কথা জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ঘাটতি নিরসনে মাঠের রাজনীতির চেয়ে বাস্তবমুখী ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর যে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে, তাঁর এই বক্তব্যে মূলত সেটিই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
বর্তমান সরকারের শীর্ষ এই নেতা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রতীকী বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করে জনদুর্ভোগের তাৎক্ষণিক কোনো উপশম ঘটানো যায় না, বরং এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী ও সুপরিকল্পিত কৌশল। বিগত বিভিন্ন সময়ে রাজপথের নানা কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে নানা ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও, বর্তমান প্রশাসন কেবল লোকদেখানো আন্দোলনের পরিবর্তে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিগুলোর উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট কাজের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পক্ষপাতী। জ্বালানি খাতের ভঙ্গুর দশা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের নানা প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকার শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিল্পকারখানা ও আবাসিক খাতে গ্যাস এবং বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখা বর্তমান সরকারের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া মূল্যে জ্বালানি আমদানি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন প্রচেষ্টার মধ্যেও সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ প্রায়ই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন। বিরোধী দল বা বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে প্রায়শই এই সংকট সমাধানের দাবিতে নানা কর্মসূচি বা আন্দোলনের ডাক দেওয়া হলেও, সরকার মনে করে কেবল রাজপথ গরম করে বা লং মার্চ করে এই কাঠামোগত সমস্যার কোনো সুরাহা করা সম্ভব নয়।
সরকারপ্রধানের এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ জোড়ালো আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে মাঠের রাজনীতির কার্যকারিতা এবং প্রশাসনিক দায়িত্বশীলতার বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে এসেছে। বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার জবাব দিয়ে সরকার বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে যে, তারা কেবল কথার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমেই জনগণের মৌলিক অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। আগামী দিনে জ্বালানি খাতের এই দীর্ঘমেয়াদী সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার কী ধরনের নতুন কৌশল গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্টমহল তাতে কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।