সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পক্ষ থেকে আকস্মিক অস্ত্র উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই সশস্ত্র পদক্ষেপে স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ এই আকস্মিক পদক্ষেপে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিএসএফের দুই সশস্ত্র সদস্য আচমকা বাংলাদেশ সীমানার দিকে লক্ষ্য করে পর পর পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলেও সৌভাগ্যবশত এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আকস্মিক এমন আগ্রাসী আচরণে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মনে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুধু ফাঁকা গুলি ছেড়েই ক্ষান্ত হয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা, বরং এই সুযোগে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন মোট চারটি নৌকা জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এসব নৌকা। নদীপথে মাছ শিকার বা অন্যান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় দরিদ্র মানুষেরা এভাবে নৌকা হারিয়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত প্রটোকল ও বন্ধুসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা। একই সঙ্গে খোয়া যাওয়া নৌকাগুলো উদ্ধারের বিষয়েও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি উঠেছে।