বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের অর্থ বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি সমাপ্ত অর্থবছরে বৈদেশিক বিনিয়োগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি সুদ আয় করেছে, যা বিগত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে সুদের হার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন বন্ডের অনুকূল কুপন রেট বজায় থাকার কারণে মূলত বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিয়োগ আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বৈদেশিক বন্ড এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোটে বিনিয়োগের মাধ্যমেই মূলত সবচেয়ে বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় এসেছে। এছাড়া বিদেশি বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকে গচ্ছিত বৈদেশিক মুদ্রার আমানত এবং ব্যাংকগুলোকে প্রদত্ত বিভিন্ন ধরনের ঋণ থেকেও বেশ ভালো পরিমাণ সুদ অর্জিত হয়েছে। এর আগের অর্থবছরের পরিসংখ্যান লক্ষ্য করলে দেখা যায়, বৈদেশিক সম্পদ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আয় এর তুলনায় বেশ কম ছিল, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বড় ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বৈদেশিক খাতের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন খাতে ঋণ ও তারল্য সহায়তা প্রদান করেও বড় অংকের আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দীর্ঘ সময় ধরে নীতিসুদহার চড়া রাখায় ব্যাংকগুলোকে বাধ্য হয়ে উচ্চ সুদে ঋণ গ্রহণ করতে হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক খাতকে দেওয়া বিভিন্ন ঋণ ও আর্থিক সুবিধা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট আয় আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে, যদিও এর আগের অর্থবছরের তুলনায় এই খাতের আয় সামান্য কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল।
বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক খাত থেকে আসা এই বিপুল পরিমাণ অর্থের ওপর ভিত্তি করে গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পরিচালন আয় রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এর বিপরীতে যাবতীয় পরিচালনা ব্যয় ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ছাব্বিশ হাজার কোটি টাকা, যা গতবারের তুলনায় যথেষ্ট বেশি। অর্জিত এই পুরো নিট মুনাফাই সরকারের জাতীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনাকে আরও বেশি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।