দেশের বিদ্যমান সংকট নিরসনে সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থান ও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পরিষদের (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রশাসনের পক্ষে একা দেশ পরিচালনা করা অসম্ভব এবং বিরোধীদের সহযোগিতা ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো উপায় নেই। সরকার যদি একা দেশ চালাতে ব্যর্থ হয়, তবে তা স্বীকার করে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের চলমান সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে এবং জনগণের সামনে সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করতে পারছে না। বিরোধী দলগুলোর সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা করা যে সম্ভব নয়, তা মেনে নেওয়ার সময় এখনই এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, বর্তমান সরকারের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই এবং জনগণ ইতিমধ্যেই বিকল্প শক্তির সন্ধান করতে শুরু করেছে। তবে দেশে নতুন করে কোনো ধরনের স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঘটতে দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের কোনো ধরনের সরকারি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না এবং তাদের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেন এই রাজনৈতিক নেতা। তিনি দাবি করেন, সংসদকে একটি দলীয় প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়েছে যেখানে জনগণের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এককভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের যদি কাজ করতে না দেওয়া হয়, তবে তাদের সংসদে উপস্থিত থাকার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। আগামী সংসদ অধিবেশনে তারা যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান।
সরকারপ্রধানের বক্তব্যের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভুলভাল তথ্য দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রহসন করা হচ্ছে এবং জনরোষ এড়াতে নানা কৌশল নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র ও সংসদ ব্যবস্থা একাকার হয়ে যাওয়ার আগেই সব পক্ষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের কাজ শুরু করার তাগিদ দেন তিনি। অন্যথায় জনগণের অধিকার আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথে কড়া প্রতিরোধ গড়ে তোলারও হুংকার দেন বিরোধীদলীয় এই চিফ হুইপ।