শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

বিয়ের খবরে পরকীয়া প্রেমিকের বাড়িতে সন্তানসহ গৃহবধূ, এসেছেন স্বামীও

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ Time View
13

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় পরকীয়া প্রেমিকের অন্যত্র বিয়ের খবর শুনে তার বাড়িতে এসে অবস্হান নিয়েছেন এক গৃহবধূ। নিজের চার বছরের শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের মিনিগাড়ি পূর্বপাড়া গ্রামে ওই যুবকের বাড়ির ফটকের সামনে এই নাটকীয় অবস্হান শুরু করেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সিয়াম নামের ওই যুবক যখন অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে সেখানে হাজির হন ওই নারী। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে প্রেমিক সিয়ামের বাড়িতে অনড় অবস্হান নেন তিনি।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ওই গৃহবধূর স্বামী একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন এবং তাদের সংসারে সাড়ে ছয় বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। সিয়াম হিন্দা এলাকার আব্দুল লতিফের সন্তান হলেও তিনি মূলত নানাবাড়ি মিনিগাড়ি গ্রামেই বসবাস করতেন এবং স্থানীয় চৌমুহনী বাজারে তার একটি মুদি দোকান ছিল। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসার সুবাদে বা অন্য কোনো মাধ্যমে সিয়ামের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সিয়াম তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এবং সিয়াম গোপনে অন্যত্র বিয়ে করতে যাওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে এই চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

এদিকে গৃহবধূর অবস্হানের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে ছুটে আসেন তার স্বামী শফিকুল ইসলাম। তবে ঘটনার আকস্মিকতায় সিয়ামের পরিবারের সদস্যরা বাড়ি তালাবদ্ধ করে অন্যত্র সরে যান বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ওই নারী তার শিশুকন্যাকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বসে থাকলেও সিয়াম বা তার পরিবারের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। স্হানীয় ইউপি সদস্য এমদাদুল হক হেলাল অবস্হিতি সামাল দিতে এবং বিষয়টি পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নিরসন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভুক্তভোগী নারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সিয়ামকে বিয়ে করা ছাড়া তিনি কোনো ধরনের আপস বা সমাধান মেনে নেবেন না।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে এবং আশপাশের লোকজন ভিড় জমাতে শুরু করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিয়ামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, যার কারণে তার কোনো মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্হানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং অবস্হা পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুক্তারুল আলম গণমাধ্যমকে জানান যে, পুলিশ অবস্হানের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং নারীর স্বামীও সেখানে উপস্হিত রয়েছেন। স্হানীভাবে যদি এই জটিলতার কোনো অবসান না ঘটে, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবসস্হা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com