গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ম্যানিলায় সার্জিও গরের সঙ্গে তাঁর একটি বৈঠক হয়েছিল।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছে। এটি কোনো একক বৈঠকের বিষয় নয়; বরং ধারাবাহিক কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার অংশ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে যে ধারাবাহিকতা ছিল, বর্তমান সরকারও সেটি অব্যাহত রেখেছে।
আওয়ামী লীগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র কিংবা মানবিক করিডোরের মতো রাজনৈতিক বিষয়গুলো আজকের বৈঠকে আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি।
সফরে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সম্পর্কে কী জানতে চেয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই আলোচনায় এসেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, অভিবাসনসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
মানবাধিকার ইস্যু এবং র্যাবের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রশ্নে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মানবাধিকার সুরক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা হয়ে থাকে। তবে আজকের বৈঠকে র্যাবের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা এ-সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট আলোচনা হয়নি। তিনি এটিকে একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বলে উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (UNGA) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এ দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও সার্জিও গরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তাঁর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় হওয়া স্বাভাবিক এবং ভবিষ্যতেও এ যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বে উদীয়মান প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ব ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর সহযোগিতা কাঠামো গড়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক সভ্যতার অন্যতম ভিত্তি হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো অনেক বিষয় বিবর্তনশীল এবং বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, নতুন উদ্যোগগুলো পর্যালোচনা করছে। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি।






















