জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মারক ও ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত নতুন এই জাদুঘরটিকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কেবল একটি সংগ্রহশালা নয়, বরং দিকনির্দেশনা পাওয়ার কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে যদি জাতি কোনো সংকটে পড়ে বা সঠিক পথ হারিয়ে ফেলে, তবে এই জাদুঘরে এসে নতুন করে প্রেরণা নেওয়া সম্ভব হবে। এটি এমন একটি স্থান যা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নকে জিইয়ে রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস জানান, দীর্ঘদিনের ইতিহাস নয়, বরং ঘটনার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে সংগৃহীত নিদর্শনগুলো এখানে স্থান পেয়েছে, যা ইতিহাস সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান যে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত অন্তত একবার এই জাদুঘর পরিদর্শন করা। এখান থেকে তারা কেবল অতীত জানবে না, বরং নিজেদের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও লিখে রেখে যাওয়ার সুযোগ পাবে, যা সৃজনশীল চর্চার কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জীবন উৎসর্গকারী তরুণরা কোনো রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, বরং একটি সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের ব্যক্তিগত চিঠি এবং স্মারকগুলো ভবিষ্যতে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। জাদুঘর নির্মাণে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদের ভূমিকার প্রশংসা করে অধ্যাপক ইউনূস সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়মিত এই স্থানটি পরিদর্শনের আহ্বান জানান।