একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই উন্নয়নের সুফল ও নেতৃত্বের লিঙ্গবৈষম্য দূর করা সম্ভব হয়। গণতন্ত্র, সুশাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি হলো জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ। আর জনসংখ্যার অর্ধেক অংশ যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পিছিয়ে থাকে, তাহলে সেই গণতন্ত্র কখনও পূর্ণতা লাভ করতে পারে না। তাই নারী নেতৃত্বের প্রশ্ন কেবল নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয় নয়, এটি একটি আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম শর্ত।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই-পরবর্তী নারী নেতৃত্ব: প্রতিবন্ধকতা ও উত্তরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ গ্রিন পার্টি এই আয়োজন করে।
নারী অধিকার সংগঠন নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরিন পারভিন হক বলেন, ‘নারীরা বলছে, আমরা আমাদের অধিকারের বেশি কিচ্ছুই চাই না। আমরা সমান অধিকারের বেশি কিছু চাই না। আবার তার চেয়ে কম কিছুও চাই না। নারীদের সোজাসাপ্টা কথা হচ্ছে, নারীরা সহিংতা মুক্ত একটি জীবন চায়। তারা নিরাপদে বাড়িতে এবং বাড়ির বাইরে স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার চায়।’
শিরিন পারভিন আরও বলেন, নারীরা নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার সমান হিস্যা চায়। সব ধরনের বৈষম্য থেকে মুক্তি চায়। একটি মানবিক রাষ্ট্র চায়। যে রাষ্ট্র নারী-পুরুষ উভায়কে মানুষ হিসেবে বিচার করবে।’
নারী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসুম বলেন, ‘গত ছয় মাসে দেশে ২৫০ জন নারী যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের শিকার হয়েছে। নারীদের কোথাও নিরাপত্তা নেই। জেলখানা, পুলিশ হেফাজত, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাস, ট্রেনসহ বিভিন্ন কর্মস্থলে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটছে। নারীদের নিরাপত্তার জন্য একটি মানবিক রাষ্ট্র দরকার।
গ্রিন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, প্রতিবন্ধকতা আছে তাই বলে লড়াইতে বাধা দেওয়া যাবে না।
আরও বক্তব্য দেন আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ব্যারিস্টার নাসরীন সুলতানা মিলি, জাতীয় নারীশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক আশরেফা খাতুন, শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ প্রমুখ।