রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
Title :
সালমান এফ রহমানের পক্ষে লড়তে চান বিদেশি আইনজীবী, বার কাউন্সিলে আবেদন রামগঞ্জের প্রবাসী মনির ও তাঁর পরিবারকে ‘বিষ প্রয়োগে হত্যা’: বিচার চেয়ে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন গুমের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থা চেয়ে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্যের খবরে ট্রাইব্যুনালে সাগর-রুনির ছেলে মেঘ নাটোরে ২২ লাখ টাকার সরকারি স্কুল ভবন ভেঙে মাত্র ১ লাখে বিক্রির অভিযোগ রামগঞ্জে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে দিল্লির সেমিনার পুলিশি বাধায় বাতিল সালাহউদ্দিন আহমদ কি সংসদ উপনেতা হচ্ছেন? সুন্দরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগ মহেশখালীতে অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে ৮টি দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২

নাটোরে ২২ লাখ টাকার সরকারি স্কুল ভবন ভেঙে মাত্র ১ লাখে বিক্রির অভিযোগ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ Time View
10

ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর

নাটোরে ব্যবহারের চার বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সরকারি অর্থে নির্মিত একটি বিজ্ঞান ভবন ভেঙে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গুরুদাসপুর উপজেলার ধানুরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ২২ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই ভবনটি অপসারণ করে এর মালামাল নামমাত্র এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র রহস্য ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউজিডিপি) অর্থায়নে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নে বিদ্যালয়টিতে একতলা বিজ্ঞান ভবন ও দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২২ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫২ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিজ্ঞান ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি বছরের জুনে কোনো রকম সরকারি অনুমোদন ছাড়াই আকস্মিকভাবে ভবনটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। মূলত নতুন চারতলা ভবনের জন্য জায়গা খালি দেখাতে এই কৌশল নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২৩ আগস্ট কর্তৃপক্ষ নতুন ভবনের অনুমোদন দিলে, গত ২৬ আগস্ট নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা নতুন ভবনের প্রথম তলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এদিকে, ভবন ভাঙার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, এলজিইডি কিংবা ইউজিডিপি কর্তৃপক্ষের কেউই কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। সরকারি অর্থে নির্মিত কোনো অবকাঠামো ভাঙার ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন ও নিলাম প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথা থাকলেও এক্ষেত্রে চরম গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি মোতালেব দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের স্বার্থেই পুরোনো ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে এবং মালামাল এক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। তবে বর্তমান সভাপতি মো. রনি ইসলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য দিয়ে জানান, ভবন ভাঙার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সাথে কোনো আলোচনা না করে নিজের খেয়ালখুশিমতো এই অনিয়ম করেছেন এবং হিসাব বুঝিয়ে দিতে চাইছেন না।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন দাবি করেন, নতুন চারতলা ভবনের অনুমোদনের জন্যই পুরোনো ভবনটি নিয়ম মেনে মাইকিং করে অপসারণ করা হয়েছে। তবে বিক্রির ১ লাখ টাকা বিদ্যালয়ের ফান্ডে কীভাবে জমা হয়েছে, তার সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে, ইউজিডিপি কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার জানিয়েছেন, ২৩ লাখ টাকার সরকারি স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়ে তাদের কাউকেই জানানো হয়নি। বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানার পর সরেজমিন তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।

স্বল্প সময়ের মধ্যে কার ইন্ধনে এবং কোন বিধিমালার আলোকে সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন এভাবে উধাও করা হলো—তা নিয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com