সুলতান আহমেদ ময়না, শেরপুর
বিশ্বের সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াডে দ্রুততম সময়ে গণিত সমাধান করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতীর খুদে প্রতিভা ইয়াসীন তাফসির অভি। এই প্রতিযোগিতায় দুটি স্বর্ণপদক অর্জনের পাশাপাশি তিনি অর্জন করেছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ খেতাব। তাঁর এই অনন্য সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আন্তর্জাতিক ‘বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস’ থেকে বিশেষ সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াড ফেডারেশনের এডুকেশন পার্টনার ‘ব্রেইন স্কুল’-এর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত ‘ওয়ার্ল্ডস লার্জেস্ট ইন্টারন্যাশনাল অ্যাবাকাস অলিম্পিয়াড’-এর এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের প্রায় ১৪টি দেশের ১,৫০০ প্রতিযোগী অংশ নেন।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে জুনিয়র লেভেলে অংশ নিয়ে ‘চ্যাম্পিয়ন অব চ্যাম্পিয়ন’ হন অভি। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ২ মার্চ অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বেও দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে তিনি ‘সুপ্রিম চ্যাম্পিয়ন’ শিরোপা নিশ্চিত করেন এবং দুই পর্বেই স্বর্ণপদক নিজের করে নেন।
বর্তমানে ময়মনসিংহ ক্যামব্রিজ মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র অভি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর বাবা ইমরান হাসান রাব্বী পেশায় একজন গণমাধ্যমকর্মী এবং মা ঝর্ণা আক্তার গৃহিণী।
বিশেষ পদ্ধতি ‘অ্যাবাকাস’-এর মাধ্যমে হিসাব-নিকাশ দ্রুত করার এই প্রক্রিয়ায় নিয়মিত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভি অনলাইনে ‘এডুটিউন’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাডভান্স লেভেলে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এছাড়া তিনি স্পোকেন ইংলিশেও নিজের দক্ষতা বাড়াতে কাজ করছেন।
ছেলের এই বিশ্বজয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বাবা ইমরান হাসান রাব্বী জানান, আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ও শেরপুরের প্রতিনিধিত্ব করে এই স্বীকৃতি অর্জন অত্যন্ত গর্বের বিষয়। অভির মা ঝর্ণা আক্তার জানান, ছোটবেলা থেকেই নতুন কিছু শেখার প্রতি অভির প্রচণ্ড আগ্রহ ছিল।
প্রশিক্ষকদের মতে, নিয়মিত অনুশীলন, গভীর মনোযোগ এবং অত্যন্ত দ্রুত গতিতে হিসাব কষার অনন্য দক্ষতার কারণেই বিশ্বমঞ্চে এই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। অভির এই সাফল্যে পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে। সচেতন মহল মনে করছেন, অভির এই অর্জন দেশের অন্যান্য শিশুদের মেধা বিকাশেও দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাবে।