ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
নাটোরের গুরুদাসপুরে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে গুরুদাসপুরের শ্যামপুর গ্রামে নদীতে গোসল করতে গিয়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলোর সুরতহাল প্রস্তুত করে। পরবর্তীতে একই গ্রামের অপর এক শিশুর মরদেহ পরীক্ষার সময় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি বাধে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ সদস্যদের ঘিরে ফেলে গালাগাল ও কাজে বাধা দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাতে ঘটনাস্থল থেকে ফেরার পথে পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় এক পুলিশ সদস্য মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এ ছাড়া লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে অন্যান্য পুলিশ সদস্যদেরও মারধর করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে অবরুদ্ধ পুলিশ সদস্যরা পার্শ্ববর্তী একটি দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে গুরুদাসপুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং আহত সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ আগস্ট রাতে চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার ও শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. সবুজ প্রামাণিক (২৯), মো. জাহের আলী প্রামাণিক (৪৫), মো. হাসান আলী (৫৭), মো. রবিউল করিম (৪০), মো. আশিক আহমেদ (২২), মো. নাঈম আলী (১৯), মো. রেজাউল করিম (২৮), মো. আল-আমিন (২৯) এবং মো. কামরুল ইসলাম (২১)।
পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।