ইমাম হাছাইন পিন্টু, নাটোর
নাটোরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থীর ভাতা থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অডিট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকদের নাস্তা, যাতায়াত এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের খরচ দেখিয়ে জনপ্রতি ৬২০ টাকা করে কর্তন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষে প্রত্যেককে ১১ হাজার ৭০০ টাকা করে প্রদান করা হয়। অথচ ভ্যাট ও ট্যাক্স বাদে যাতায়াত এবং নাস্তা বাবদ জনপ্রতি ১২ হাজার ৩২০ টাকা বরাদ্দ ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘টেকনোলজি এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার অন হুইলস ফর আন্ডারপ্রিভিলেজড রুরাল ইয়ংপিপল অব বাংলাদেশ (টেকাব ২য় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট মাসে এই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হয়। দুই মাসের এই কর্মসূচিতে মোট ৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠান, ব্যানার, যাতায়াত ভাতা (প্রতিদিন ২০০ টাকা) এবং নাস্তা বাবদ (ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ১০০ টাকা) অর্থ বরাদ্দ ছিল। তবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নাস্তার টাকা প্রশিক্ষণ শেষে একত্রে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের প্রাপ্য টাকা থেকে জোরপূর্বক জনপ্রতি ৬২০ টাকা করে কেটে রাখা হয়েছে। মহিউদ্দিন ও সজিবুল ইসলাম অন্তর নামের দুই প্রশিক্ষণার্থী জানান, অডিট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকদের যাতায়াত, নাস্তা এবং সমাপনী অনুষ্ঠানের কোনো আলাদা বরাদ্দ না থাকায় তাঁদের ভাতা থেকে এই টাকা কাটা হয়। পরে হলুদ খামে করে তাঁদের ১১ হাজার ৭০০ টাকা করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষক তাইজুল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণার্থীদের সম্মতি নিয়েই সমাপনী অনুষ্ঠান ও খাবারের খরচ বাবদ মোট ২৪ হাজার ৮০০ টাকা (জনপ্রতি ৬২০ টাকা) কাটা হয়েছে।
ঘটনা প্রসঙ্গে নাটোর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ.টি.এম. গোলাম মাহবুব প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে কথা না বলে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আবির হোসেন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।