দেশে জ্বালানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্যাসক্ষেত্র ও এলএনজি টার্মিনালগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৩৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বাস্তবে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ২২৬২.২ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ, দেশের গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৪১ শতাংশই অলস পড়ে আছে, যা বিদ্যমান জ্বালানি সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
গ্যাসের এই অপ্রতুলতায় দেশের অধিকাংশ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। এর ফলে বড় ধরনের লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে সাধারণ মানুষ। সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায়। একদিকে গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে যেসব কেন্দ্র উৎপাদনে নেই সেগুলোর জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ গুনতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বাড়তি চাপের সৃষ্টি করেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী গ্যাস অনুসন্ধানের ঘাটতি এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে বাংলাদেশ আজ এই পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। তাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর না দিলে সংকট কাটানো অসম্ভব। শুধু আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব খনিজ সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।