মোঃ মাসুদ রানা মনি, রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য না থাকায় দিন দিন দিশেহারা হয়ে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা। বিশেষ করে ছোট চাকরিজীবী ও প্রাইভেট চাকরিজীবীদের নীরব কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। আত্মসম্মানের ভয়ে তারা কষ্টের কথা কাউকে বলতেও পারছেন না।
রামগঞ্জ ও সোনাপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, নিত্যপণ্যের বাজারে বইছে অসন্তোষের হাওয়া। চাল ও আটা কোনোমতে কেনা গেলেও মাছ, মাংস ও সবজি কেনা দায় হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য। বাজারে একই পণ্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। ডিম, ডাল, পেঁয়াজ, আলু এবং রসুনের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মানভেদে দেশি ও আমদানির রসুন ৯০ থেকে ১৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা এবং চিনি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেড়েছে জিরা, গোলমরিচ ও এলাচির দাম।
সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে শিশু খাদ্য ও গুঁড়ো দুধের বাজারে। ব্র্যান্ডভেদে শিশুদের গুঁড়ো দুধে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি সাবান, ডিটারজেন্ট পাউডার এবং এলপিজি গ্যাসের দামও ঊর্ধ্বমুখী।
কাঁচা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিম ১৪০-১৫০ টাকা, টমেটো ১৪০-১৭০ টাকা, ফুলকপি ১৫০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা এবং বরবটি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০-২৮০ টাকা, রুই ৩৮০-৪৫০ টাকা এবং ইলিশ ১৬০০ থেকে ২৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রামগঞ্জ ও সোনাপুর বাজারে একটি শক্তিশালী পাইকারি সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয় রয়েছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তারা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে গ্রাহকদের সাথে তাদের প্রায়ই বাকবিতণ্ডা হচ্ছে এবং বিক্রিও কমে গেছে।
চাকরিজীবীদের দাবি, বর্তমান বাজারে যে বেতন পাওয়া যায়, তা দিয়ে পরিবারের মৌলিক চাহিদা মেটানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ৫ কেজির জায়গায় এখন ১ কেজি চাল কিনে কোনোমতে সংসার চালাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান জানান, বর্ষা মৌসুমে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের স্বার্থে বাজারে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।