রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ অপরাহ্ন

দেশজুড়ে সার পর্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও সীমান্তে চলছে পাচারের রমরমা বাণিজ্য

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪ Time View
6

সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি

দেশে রাসায়নিক সারের পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত মজুত থাকার পরও অসাধু চক্রের তৎপরতা থামছে না। সরকারি ভর্তুকির সুফল ও দুই দেশের মূল্যমানের পার্থক্যের সুযোগ নিয়ে সীমান্ত দিয়ে ভারতে সার পাচার অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০০ কেজি ইউরিয়া সার ও একটি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

তিস্তা ব্যাটালিয়ন ৬১ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) শফিরহাট বিওপির একটি দল শূন্য লাইন থেকে প্রায় ৩০০ গজ ভেতরে দক্ষিণ হোসনাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০০ কেজি ইউরিয়া সার উদ্ধার করে। এছাড়া ধরলা বিওপির আরেকটি দল শূন্য লাইন থেকে ২০০ গজ অভ্যন্তরে উত্তর বর্ডার এলাকা থেকে একটি ভারতীয় গরু আটক করে। বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা এসব সার ও গরুর মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দেশজুড়ে পাচার রোধে বিজিবির কড়া নজরদারি

শুধু লালমনিরহাট নয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত ও উপকূলীয় অঞ্চলে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সার আটকের ঘটনা ঘটেছে। গত ২৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে ট্রাকে বোঝাই ২৪ টন ইউরিয়া সার জব্দ করে বিজিবি। এছাড়া ১ সেপ্টেম্বর দেওয়ানগঞ্জ, ৫ সেপ্টেম্বর ভোলা কোস্টগার্ডের নদীপথের অভিযান, এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম ও দিনাজপুরে যৌথ অভিযানে হাজার হাজার বস্তা অবৈধ সার উদ্ধার করা হয়। মূলত দুই দেশের বাজারের মূল্যের ব্যবধানই এই পাচার বৃদ্ধির মূল কারণ। বাংলাদেশে ভর্তুকিমূল্যে প্রতি কেজি ইউরিয়া সার মাত্র ২৭ টাকায় (৫০ কেজির বস্তা ১,৩৫০ টাকা) পাওয়া গেলেও, সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্যগুলোতে এর দাম ও চাহিদা অনেক বেশি।

কৃত্রিম সংকটে প্রান্তিক কৃষকরা

অসাধু ডিলার ও চোরাচালান সিন্ডিকেটের লোভের কারণে সরকারের বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির অর্থ বেহিসেবিভাবে পাচার হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট এবং সাধারণ কৃষকদের বাড়তি দামে সার কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

চাহিদার চেয়েও বেশি মজুত রয়েছে গুদামে

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমে যেখানে ১৪ লাখ ২৯ হাজার টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে, বিপরীতে মজুত রয়েছে ১৭ লাখ ৪৬ হাজার টন। টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার মিলিয়ে দেশের মোট চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৬ লাখ ৬৩ হাজার টন সার বেশি মজুত রয়েছে।

সীমান্তে চোরাচালান ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে বিজিবি। তিস্তা ব্যাটালিয়ন জানিয়েছে, দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং জাতীয় সম্পদ পাচার রোধে তাদের এই বিশেষ অভিযান ও নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com