ডারউইন টেস্টে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। মিচেল স্টার্কের করা ৫৫তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের ১৯৮ রান পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। এর মধ্য দিয়ে টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ।
লিড নেওয়ার পথে ব্যাট হাতে সবচেয়ে বড় অবদান তানজিদ হাসান তামিমের। লাঞ্চের পরও দারুণ আগ্রাসী ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। স্টার্ককে চার মেরে বাংলাদেশকে দুইশ রানের মাইলফলকও পার করান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ১৯৮ রানের জবাবে এই প্রতিবেদন লেখা ৬০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রানে ব্যাট করছে বাংলাদেশ। তানজিদ ৯৪ রান করে সেঞ্চুরির সুবাস পাচ্ছেন, আর তার সঙ্গে ৪৫ রানে আছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের আগের লিড এসেছিল ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টে। সেবার অস্ট্রেলিয়ার ৪২৭ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছিল ২৬৯ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৫৮ রানের লিড পেয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ।
প্রথম সেশনও বাংলাদেশের
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনটিও নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। লাঞ্চের বিরতিতে যাওয়ার সময় ৫১ ওভারে ২ উইকেটে ১৮২ রান করেছে সফরকারীরা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থেকে তখন মাত্র ১৭ রানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
সকালের সেশনে ২৭ ওভারে ৮৫ রান তুলেছে বাংলাদেশ, হারিয়েছে একটি উইকেট। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও তানজিদ হাসান তামিমের ১০২ রানের জুটি বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। তবে ৪৯ রানে থেমে যায় মুমিনুলের ইনিংস।
জশ হ্যাজলউডের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুমিনুল। ৯৫ বলের ইনিংসে চারটি বাউন্ডারি ছিল তাঁর। এরপর তানজিদের সঙ্গে জুটি বাঁধেন নাজমুল হোসেন শান্ত। লাঞ্চের সময় তানজিদ ৭৪ এবং শান্ত ২৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। তৃতীয় উইকেটে দুজনের জুটি থেকে আসে ৪৩ রান।
তানজিদ পুরো সেশনজুড়েই ছিলেন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। ওয়েবস্টারকে ডাউন দ্য উইকেটে এসে মারা তার ছক্কাটি ছিল দুর্দান্ত। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। মাত্র দ্বিতীয় টেস্টেই প্রথম ফিফটি পাওয়া তানজিদ এখন ছুটছেন প্রথম সেঞ্চুরির দিকে।
সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা ছিল ব্যাটিং। প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় হার সেই শঙ্কা আরও বাড়িয়েছিল। তবে মূল টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী পেস আক্রমণের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর করেছেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা।