শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

রাষ্ট্রপতি ফখরুলের সামনে যে গণতান্ত্রিক পরীক্ষা

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ Time View
2

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি কেবল একজন নেতার পদোন্নতির বিষয় নয়, বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চরিত্র ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার নিয়ে জনগণের প্রত্যাশার একটি বড় পরীক্ষা। সংসদীয় গণতন্ত্রে রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত প্রতীকী হলেও, সাংবিধানিক ও নৈতিক দিক থেকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই পদে আসীন হয়ে মির্জা ফখরুল দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নিজেকে কতটা তুলে ধরতে পারেন, তা এখন দেখার বিষয়।

নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর জোট সমর্থিত কর্নেল (অব.) অলি আহমদের প্রার্থিতা এই প্রক্রিয়াকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। যদিও সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মির্জা ফখরুলের জয় প্রায় নিশ্চিত, তবু বিরোধী জোটের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে দৃশ্যমান করছে। ক্ষমতাসীন দল কতটা উদারভাবে বিরোধী মতকে মেনে নেয় এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে পারেন কি না, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য বড় নির্দেশক হতে পারে।

বাংলাদেশের মানুষ এখন কেবল সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর ইতিবাচক পরিবর্তন চায়। যেখানে ন্যায়বিচার, বাকস্বাধীনতা এবং স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত হবে। মির্জা ফখরুলের সামনে সুযোগ রয়েছে রাষ্ট্রপতির পদটিকে দলমতের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাওয়ার। ইতিহাস বিচার করবে তিনি দলীয় সংকীর্ণতা কাটিয়ে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে কতটুকু সফল হতে পেরেছেন। মূলত, ক্ষমতার পালাবদলের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনই পারে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com