মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন

জার্মানির কট্টর ডানপন্থি এএফডির বিরুদ্ধে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ Time View
10

জার্মানিতে কট্টর ডানপন্থি রাজনৈতিক দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনি সাফল্যের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানী বার্লিন ছাড়াও হামবুর্গ ও মিউনিখসহ প্রায় কুড়িটি বড় শহরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজিত এসব প্রতিবাদ সমাবেশে প্রায় দেড় লাখ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। মূলত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুরক্ষা এবং কট্টর ডানপন্থি দলটিকে নিষিদ্ধ করার জোরালো দাবি জানাতেই রাজপথে নামে জনতা।

বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ‘প্রুফ’ ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘ক্যাম্প্যাক্ট’-এর ডাকে সাড়া দিয়ে সর্বস্তরের মানুষ এই কর্মসূচিতে যোগ দেয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে গণতন্ত্রের পক্ষে নানা স্লোগান এবং এএফডিকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়। ক্যাম্প্যাক্টের প্রধান ক্রিস্টফ বাউৎস মন্তব্য করেন যে, দেশের সংবিধানের বিরোধিতা করে এমন শক্তিগুলোকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছানো থেকে বিরত রাখতে সাধারণ নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমেছেন। পুলিশ প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, বার্লিনসহ বিভিন্ন বড় শহরে হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যের নির্বাচনে এএফডি প্রায় চুয়াল্লিশ শতাংশ ভোট পেয়ে চমক সৃষ্টি করে এবং চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের দল সিডিইউকে পেছনে ফেলে দেয়। দলটির এই উল্লেখযোগ্য সাফল্যের পরই মূলত দেশজুড়ে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নির্বাচনের আগে এএফডির বিতর্কিত ‘রিমিগ্রেশন’ নীতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ জার্মান পার্লামেন্টে এই নীতির তীব্র সমালোচনা করে একে জাতিগত নিধনের সমতুল্য বলে মন্তব্য করেন, যার ফলে চ্যান্সেলরের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও নেয় দলটি।

অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের পাশাপাশি মস্কোর প্রতি তুলনামূলক বন্ধুভাবাপন্ন নীতির কারণেও এএফডিকে নিয়ে জার্মানির রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা চলছে। স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে দলটি প্রায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় নাগরিকদের একটি বড় অংশের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। দেশটির ইতিহাসের নাৎসি অধ্যায়ের কথা স্মরণ করে অনেকেই এই কট্টর ডানপন্থি উত্থানকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন। যদিও জার্মানির আইন অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি, তবুও ক্রমবর্ধমান জনরোষের মুখে এএফডিকে নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com