দিনাজপুরের হাকিমপুরসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কঠোর নজরদারির কারণে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারে উঁচু পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে দূরবীন ও আধুনিক নজরদারি সরঞ্জাম ব্যবহার করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এতে ঘরোয়া পরিবেশ, ফসলের মাঠ এমনকি শিশুদের খেলাধুলা পর্যন্ত বিএসএফের নজরদারির আওতায় চলে আসায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী নয়াপাড়া, চন্ডিপুর ও বোয়ালদাড় গ্রামের বাসিন্দারা জানান, অনেক সময় বসতভিটা আন্তর্জাতিক সীমারেখার খুব কাছাকাছি হওয়ায় বিএসএফের উপস্থিতি তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও নারীরা জানান, নিজেদের জমিতে কাজ করার সময় কিংবা উঠানে বসে থাকার সময়ও সবসময় মনে হয় কেউ তাদের ওপর নজর রাখছে। সম্প্রতি সীমান্তে বেশ কিছু আটকের ঘটনা এবং অতীতে গুলিবর্ষণের মতো ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে। শিশুরা এখন ঘরের বাইরে বের হতেও ভয় পাচ্ছে।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লতিফুল বারী জানান, আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে বিএসএফের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টার বিষয়টি বিজিবি কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে। অহেতুক নজরদারি ও সীমান্ত সংলগ্ন সাধারণ মানুষের ওপর এ ধরনের আচরণের প্রতিবাদে নিয়মিত পতাকা বৈঠক ও চিঠির মাধ্যমে বিএসএফকে সতর্ক করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।