মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২১ পূর্বাহ্ন
Title :
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির আহ্বান সাভারে ককটেল বিস্ফোরণ, তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে কিয়েভে হামলা, নিহত ১৪ ভারি বর্ষণে খুঁটি ভেঙে বান্দরবানে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ সৌদি প্রবাসীদের যে বিষয়ে সতর্ক করল দূতাবাস ইসরায়েলের হাত ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র? নিউইয়র্কে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ‘প্যাট্রিয়টস অব বাংলাদেশ’-এর জরুরি সভা সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩ চসিকের ৩,৩০০ পরিচ্ছন্ন কর্মীকে রেইনকোট দিলেন মেয়র ডা. শাহাদাত খাগড়াছড়ি রামগড়ে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলা: ১ বছরের মাথায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

মায়ের মৃত্যুসংবাদে হৃদপিণ্ড ভেঙে চুরমার: প্রবাসেই শেষ নিঃশ্বাস সন্তানের

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬
  • ১২১ Time View
142

মোঃ মাইন উদ্দিন :
আপনজনের একটি ফোনকল কখনও কখনও পুরো জীবনটাই থামিয়ে দিতে পারে একজন প্রবাসীর জীবন। একটি মাত্র শব্দ, “মা আর নেই” শব্দটি কারও কাছে একটি সংবাদ হলেও, সন্তানের কাছে সেটিই হয়ে উঠতে পারে পৃথিবী ভেঙে পড়ার মুহূর্ত।
বলছি- কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদী দক্ষিণ পাড়া বড়বাড়ীর সন্তান, দুবাই প্রবাসী মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়ার কথা।
আব্দুল্লাহ মিয়ার জীবনে এমনই এক নির্মম মুহূর্ত নেমে আসে। কয়েকদিন আগে দেশে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়। প্রবাসে থাকা সেই সন্তানের কাছে খবরটি পৌঁছায় হাজার মাইল দূর থেকে। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর এই শোক তিনি সহ্য করতে পারেননি। মুহুর্তেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর শেষ পর্যন্ত প্রবাসের মাটিতেই নিভে যায় তাঁর জীবনপ্রদীপ।
এই একটি ঘটনা কেবল একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, এটি যেন প্রবাস জীবনের এক গভীর, নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
প্রবাসে থাকা লাখো বাংলাদেশি মানুষের জীবন বাইরে থেকে যতটা চকচকে মনে হয়, ভেতরে ততটাই নিঃসঙ্গ, ততটাই কঠিন। তারা নিজের সুখ, স্বপ্ন, এমনকি পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো থেকেও দূরে থাকে শুধু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য।
কেউ বাবার অসুস্থতার সময় পাশে থাকতে পারে না, কেউ সন্তানের জন্মের সময় দেশে ফিরতে পারে না, আবার কেউ মায়ের জানাজায় উপস্থিত থাকার সুযোগও পায় না। প্রবাস জীবনের সবচেয়ে বড় বেদনা এখানেই, সবচেয়ে প্রিয় মানুষগুলোর যখন প্রয়োজন, তখন তাদের পাশে থাকা যায় না।
মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়ার ঘটনাটি আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, প্রবাসীরা শুধু টাকা পাঠানোর যন্ত্র নয়, তারা রক্তমাংসের মানুষ, তাদের বুকেও গভীর অনুভূতি, মমতা আর অশেষ ভালোবাসা আছে। মায়ের জন্য সন্তানের যে টান, তা পৃথিবীর কোনো দূরত্ব দিয়ে মাপা যায় না।
বিদেশে বসে যখন একজন সন্তান মায়ের মৃত্যুসংবাদ শোনে, তখন তার অসহায়ত্ব কল্পনা করা কঠিন। চারপাশে অপরিচিত মানুষ, ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পরিবেশ, কিন্তু বুকের ভেতরে তীব্র শোক আর একটাই আফসোস: শেষবারের মতো মায়ের মুখটা আর দেখা হলো না।
এই প্রবাস জীবনই আবার বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। লাখো প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্সে চলে বহু পরিবারের চাকা, এগিয়ে যায় দেশের অর্থনীতি। কিন্তু সেই অর্থের আড়ালে কত কান্না, কত ত্যাগ আর কত না বলা কষ্ট লুকিয়ে আছে সেগুলো খুব কমই আলোচনায় আসে।
মোঃ আব্দুল্লাহ মিয়ার মৃত্যু তাই শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, এটি প্রবাস জীবনের এক নির্মম প্রতীক। যেই জীবন স্বপ্নের খোঁজে শুরু হয়, অনেক সময় সেই জীবনই হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গতা আর বেদনার দীর্ঘ পথচলা।
আজ হয়তো তার পরিবার দুইটি জানাজা, দুইটি কবর আর দুইটি অসমাপ্ত গল্পের ভার বহন করছে, একজন মায়ের, আরেকজন সন্তানের।
প্রবাসীদের এই নীরব কষ্ট আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়, পরিবার থেকে হাজার মাইল দূরে থেকে যে মানুষগুলো আমাদের দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে রাখছে, তাদের জীবন কতটা কঠিন, কতটা অনুভূতিপূর্ণ।
সত্যটা খুব সরল, প্রবাসীরা শুধু টাকা পাঠায় না, তারা নিজের জীবনের অনেক আনন্দ, অনেক প্রিয় মুহূর্ত, এমনকি কখনও কখনও নিজের জীবনটাও উৎসর্গ করে পরিবারের জন্য।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com