জাতিসংঘ সদর দপ্তরের এস-২৭২৯ (Room: S-2729) কক্ষে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের এস-২৭২৯ (Room: S-2729) কক্ষে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টগুলোর পরিচালনাগত সহযোগিতা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ/প্রতিপূরণ (Reimbursement) দ্রুতকরণ, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ (WPS) এজেন্ডা এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পর মন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনে মোতায়েনকৃত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর প্রতিপূরণ (Reimbursement) সংক্রান্ত বিষয়সমূহ সহজতর করার ক্ষেত্রে ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্ট (DOS)-এর ধারাবাহিক ও কার্যকর সহায়তার জন্য আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ডিওএস-এর পরিবেশ বিভাগকেও (Environment Section) ধন্যবাদ জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনগুলোর কার্বন ফুটপ্রিন্ট (Environmental Footprint) বা পরিবেশগত ক্ষতি হ্রাস করতে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মন্ত্রী আরো বলেন, বাংলাদেশ ‘উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি’ (WPS) এজেন্ডা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি মিশন এলাকায় নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ, উপযুক্ত এবং অনুকূল কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে আরো বেশি পরিবেশবান্ধব ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, হাইতির বর্তমান অস্থিতিশীল ও জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পুলিশ অত্যন্ত আধুনিক ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি বিশেষায়িত ফর্মড পুলিশ ইউনিট (Specialized FPUs) মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মন্ত্রী জানান, প্রচলিত এফপিইউ-এর তুলনায় এই ইউনিটগুলো সোয়াত (SWAT), র্যাপিড রেসপন্স প্ল্যাটুন, বিস্ফোরক অর্ডন্যান্স নিষ্ক্রিয়করণ (EOD), ফরেনসিক ও ক্রাইম সিন ম্যানেজমেন্ট, সংগঠিত অপরাধ ও সাইবার ক্রাইম তদন্ত, নৌ-কার্যক্রম (Riverine Operations) এবং মাদকবিরোধী অভিযানে বিশেষভাবে পারদর্শী।
হাইতিতে এই বিশেষায়িত সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন। তিনি জানান, এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আগামী ১৫-১৭ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল এমওইউ (MOU) আলোচনায় অংশ নেবে।
আলোচনার শেষভাগে, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল পতাকাতলে বাংলাদেশের অবিচল ও দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সাপোর্টের সমন্বয়ে বিশ্ব শান্তিরক্ষা আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকার প্রশংসা করে হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব আরো জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।