বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১২ পূর্বাহ্ন
Title :
রেনশর সেঞ্চুরি পর এলিসের পাঁচ উইকেট- জিম্বাবুয়েকে হারালো অস্ট্রেলিয়া বাঁচামরার ম্যাচে ভারতকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দিলো আফগানিস্তান খালেদের বোলিং তোপে উড়ে গেল ল্যাঙ্কাশায়ার নাট-বোল্ট-স্ক্রুর অবৈধ আমদানিতে চাপে দেশীয় শিল্প, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার উৎপাদন আংশিক বন্ধ ৭৮ শতাংশ কারখানায়, ক্রয়াদেশ কমেছে ৫৫ শতাংশের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়নে সচিবদের তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ ডিইপিজেডে স্মার্ট ওয়্যারহাউজ চালু করলো অ্যাভেরি ডেনিসন টেকনাফে সাগরপথে পাচারকালে ১৫ জন উদ্ধার টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন জ্যোতি নির্বাচন কমিশনকে দলীয়করণ করার ফল কখনোই ভালো হবে না: সাদিক কায়েম

রামেক হাসপাতালে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম হাঁটু প্রতিস্থাপন

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১০ Time View
14

চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। সম্প্রতি এই প্রথমবারের মতো কোনো রোগীর শরীরে সফলভাবে কৃত্রিম হাঁটু প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগের একদল দক্ষ চিকিৎসক এই জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এই অর্জনের ফলে উত্তর অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এখন নিজ এলাকা থেকেই অত্যন্ত উন্নত মানের এই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ষাটোর্ধ্ব বিবিজান দীর্ঘদিন ধরে তীব্র হাঁটুব্যথায় কষ্ট পাচ্ছিলেন। চিকিৎসকদের পরীক্ষার পর জানা যায় যে তিনি অস্টিওআর্থ্রাইটিস নামক গুরুতর সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার হাঁটুর হাড় মারাত্মকভাবে ক্ষয় হয়ে গেছে। এই রোগের কারণে তার হাঁটু পুরোপুরি বাঁকা ও শক্ত হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে তিনি একা একা কোনোভাবেই স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারতেন না। রোগীর সার্বিক শারীরিক অবস্থা ও কষ্টের বিষয়টি বিবেচনা করে চিকিৎসকরা দ্রুত তার ক্ষতিগ্রস্ত হাঁটুতে কৃত্রিম জোড় লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রামেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স সার্জারি বিভাগে এই যুগান্তকারী অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। সফল এই অপারেশনটিতে নেতৃত্ব দেন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন। তার সঙ্গে এই অস্ত্রোপচার দলে আরও অংশ নেন ডা. মনোয়ার তারিক সাবু, ডা. সফিকুল ইসলাম, ডা. সাইদ আহমেদ, ডা. মাতিউল ইসলাম এবং ডা. সালেহীনসহ বিভাগের অন্যান্য বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সহযোগীরা। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া এই চিকিৎসায় রোগীর পরিবার ও চিকিৎসকরা দারুণ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

অস্ত্রোপচারের সফলতার বিষয়ে অধ্যাপক ডা. আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান যে, কৃত্রিম হাঁটু প্রতিস্থাপনের ফলে রোগী এখন ধীরে ধীরে তার হাঁটুর কার্যক্ষমতা ফিরে পাবেন। তিনি খুব শীঘ্রই কোনো ধরনের তীব্র ব্যথা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবেন এবং নিজের দৈনন্দিন কাজগুলো নিজে করতে পারবেন। তবে পুরোপুরি সুস্থতার জন্য রোগীকে চিকিৎসকদের দেওয়া নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম ও নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে বলেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন।

চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, রামেক হাসপাতালে এখন থেকে এই ধরনের অস্ত্রোপচার নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। অতীতে এই বিশেষ চিকিৎসার জন্য রোগীদের রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বাইরে কিংবা ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হতো। কিন্তু এখন স্থানীয় পর্যায়ে এই সুবিধা চালু হওয়ায় উত্তরবঙ্গের দরিদ্র ও সাধারণ রোগীদের অর্থ এবং সময় দুটোরই সাশ্রয় হবে এবং চিকিৎসা সেবা আরও বেশি সহজলভ্য হয়ে উঠবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com