বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অপরাধের জবাবদিহিতা প্রসঙ্গে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। সম্প্রতি এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, কেউ যদি কোনো ধরনের অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, তবে তাকে অবশ্যই নিজ দেশের মাটিতে থেকে সেই কাজের আইনগত পরিণতি মাথা পেতে নিতে হবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেন এবং একে অপরাধী ও দোষী ব্যক্তিদের কাপুরুষোচিত আচরণ বলে অভিহিত করেন।
বক্তব্যে তিনি আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, প্রকৃত মানুষেরা কখনো সংকট তৈরি করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় না। তারা দেশের মাটিতেই বসবাস করে এবং যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত থাকে। আদালতের রায়ে যদি ফাঁসির মতো চরম দণ্ডও নির্ধারিত হয়, তবুও তা হাসিমুখে মেনে নেওয়া উচিত অথবা প্রয়োজন হলে দীর্ঘ মেয়াদে কারাবাস ভোগ করার মানসিকতা থাকতে হবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই দেশ ত্যাগ করে অন্য কোথাও আশ্রয় নেওয়া যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিরোধীদলীয় এই নেতার এমন মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের বিশ্লেষণ চলছে। বিশেষ করে বিগত দিনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল, যার আলোকেই এই বক্তব্যটি এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সব মিলিয়ে, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর নতুন করে জোর দিয়েছে। অপরাধ করলে দেশ ছাড়ার যে প্রবণতা অতীতে দেখা গেছে, তার কঠোর সমালোচনা করে তিনি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।