দেশের বাজারে হস্তচালিত বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন মূল্যতালিকা কার্যকর করা হবে। মূলত উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে এই মূল্য সমন্বয়ের পথ বেছে নিয়েছেন মালিকরা।
নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেশিরভাগ বেকারি পণ্যের দাম প্রায় কুড়ি শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। তবে কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে সরাসরি দাম না বাড়িয়ে পণ্যের ওজন কমিয়ে দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যে রুটি এতদিন দশ টাকায় বিক্রি হতো, দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ভবিষ্যতে তার ওজন চারশো গ্রামের পরিবর্তে কিছুটা কমিয়ে সাড়ে তিনশো বা তিনশো কুড়ি গ্রামে নামিয়ে আনা হতে পারে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান যে, গত কয়েক মাসে বাজারে সব ধরনের কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছুদিন আগেও যে আটার দাম ছিল পঁচিশ থেকে ত্রিশ টাকা, তা বেড়ে এখন বাহাত্তর টাকায় পৌঁছেছে। একইভাবে ময়দা ও ভোজ্যতেলের দামও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যার সাথে যুক্ত হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের বহুমুখী সংকট ও বাড়তি কর্মচারীর খরচ।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ শতকরা কুড়ি থেকে ত্রিশ ভাগ পর্যন্ত বেড়ে গেছে, অথচ গ্যাস ও বিদ্যুতের নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন কমে গেছে দশ থেকে পনেরো শতাংশ। এ ধরনের বিরূপ পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে এবং এই সংকট দীর্ঘায়িত হলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরো বেকারি খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।