কৃষকদের চরম প্রয়োজনের সময়েও বাজারে সারের সুষম সরবরাহ নিশ্চিত না করে গোপনে তা গুদামে আটকে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সদর এলাকার ডাইংপাড়া অঞ্চলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মেসার্স কৃষি ঘর নামক একটি ডিলার প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক সার জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সরকার নির্ধারিত নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে এই অবৈধ মজুত গড়ে তোলা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
অভিযানকালে ওই ডিলারের গুদাম তল্লাশি করে মোট ৫০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ২০০ বস্তা এমওপি এবং ৩০০ বস্তা টিএসপি সার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল যে, ফসলের ভরা মৌসুমে সারের কৃত্রিম ঘাটতি দেখিয়ে তাদের হয়রানি করা হয় এবং চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য করা হয়। এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডিলারদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত ডিলার সোলাইমান পাটোয়ারী বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) একজন তালিকাভুক্ত অনুমোদিত ডিলার। এর আগেও কৃষকদের মধ্যে নিয়ম অনুযায়ী সার বিক্রি না করার অভিযোগে তাকে গত দুই মাসের মধ্যে একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের সেই সতর্কবার্তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে তিনি নিজের গুদামে অবৈধভাবে সার লুকিয়ে রাখেন এবং পরিস্থিতি নিজের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ডিলার সোলাইমান পাটোয়ারীকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পরপরই তাকে পুলিশের সহায়তায় কারাগারে পাঠানো হয় এবং জব্দকৃত সারগুলো পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার্থে এবং সারের বাজারে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান আরও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।