বাংলাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, দেশজুড়ে একদিনে মশাবাহিত এই রোগে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ জন ডেঙ্গুরোগী, যা এই বছরে এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা যায়, চলতি বছরের শুরু অর্থাৎ পহেলা জানুয়ারি থেকে সাতই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১৩০ জন। একই সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন রোগী। এর আগে চলতি বছরে বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা কম থাকলেও সম্প্রতি এই হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একদিনে মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের এলাকায় ৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ২ জন মারা গেছেন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ২ জন এবং বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ এবং ৪ জন নারী রয়েছেন, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে এই রোগের ঝুঁকি সব বয়সের মানুষের জন্যই সমানভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন দেশজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু বাহক মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস না করা পর্যন্ত এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে মশারি ব্যবহার এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।