ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঈদ কথন ২০২৬’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু সভাকক্ষে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রতিযোগিতায় বিজয়ী পাঁচ মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির চার শতাধিক উৎসাহী শিক্ষার্থী এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা ক্যাম্পাসজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তরুণ প্রজন্মের লেখালেখি ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় জমা পড়া লেখাগুলো থেকে সেরা প্রতিভাবানদের বাছাই করা হয়।
প্রতিযোগিতার জমা পড়া বিপুলসংখ্যক লেখা নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করার জন্য দেশের প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী বিচারিক প্যানেল গঠন করা হয়েছিল। সমসাময়িক বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কবি ও কথাসাহিত্যিক আশীফ এন্তাজ রবি, হাসান রোবায়েত এবং কিঙ্কর আহসান বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাদের কঠোর ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমেই প্রতিযোগিতার সেরা পাঁচ শিক্ষার্থীকে বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে ছিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া, যার নিরলস পরিশ্রমে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থী এশা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ডাকসুর এমন ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক আয়োজনে বিজয়ী হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছেন। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তাদের সৃজনশীল কাজের যথাযথ মূল্যায়নে এ ধরনের নানামুখী উদ্যোগ ভবিষ্যতেও বড় ধরনের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়া বিচারকদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রতিযোগিতার সার্বিক সফলতা তুলে ধরেন এবং অংশগ্রহণকারী সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা জানান এবং বিজয়ীদের অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ডাকসুকে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নের একটি কার্যকর কেন্দ্র বা স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে রূপান্তরের কাজ করা হচ্ছে। প্রশাসন এবং বাজেটস্বল্পতার নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ফ্রি হেলথ ফেস্ট, ইকো বাস চালুকরণ এবং হলের অভ্যন্তরে কম্পিউটার ল্যাব ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের মতো বিভিন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এসে ডাকসুর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেশের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তরে প্রস্তুত রয়েছে বলে ঘোষণা দেন নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অতি দ্রুত পরবর্তী ডাকসু নির্বাচনের তফসিল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য শাহীনুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন সম্পাদক ও সদস্যসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অসংখ্য শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।