জাতীয় সংসদে সদ্য উত্থাপিত একটি প্রস্তাবিত আইনকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এই আইনটির বিভিন্ন ধারা সরাসরি ইসলামি শরিয়াহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জোরালো দাবি তুলেছেন। তাদের মতে, প্রস্তাবিত এই বিলটি পাস হলে দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং প্রচলিত আইন কাঠামোর মধ্যে বড় ধরনের সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির তৈরি হতে পারে।
আইনটি সংসদে পেশ করার পর থেকেই এর বিরোধিতায় সোচ্চার হয়ে ওঠেন বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা। অধিবেশন চলাকালীন সময়ে তারা স্পিকারের কাছে এই বিষয়ে তাদের তীব্র আপত্তির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন। শরিয়াহর বিধানের পরিপন্থী কোনো আইন জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রতিবাদস্বরূপ অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে ওয়াকআউট করেন। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে তাদের শান্ত করার বা বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে তারা অভিযোগ করেন। ফলে আইনটি নিয়ে সংসদ ভবনের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের প্রস্তাবিত এই বিলটি নিয়ে বিরোধী দলের এমন অনমনীয় অবস্থান আগামী দিনে রাজনৈতিক মাঠে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ধর্মীয় সংবেদনশীল বিষয় হওয়ায় এই ইস্যুতে জনমত কোন দিকে যায়, সেদিকে এখন সবার নজর রয়েছে। অধিবেশন বয়কটের পর বিরোধী দল এই আইনের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে।