দেশের সব নাগরিককে সমানাধিকার ও মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন যে, ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটির ব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় কারণ এটি জাতিকে খাটো করে। সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের শ্যাম সুন্দর জিউর আখড়ায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা মুসলমান—ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে প্রত্যেকেই এই দেশের গর্বিত নাগরিক এবং তাদের সম্মিলিত পরিচয় হলো তারা সবাই বাংলাদেশি। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য বজায় রাখার জন্য তিনি জোরালো আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন যে, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়েছিল কংসের অত্যাচারের বিরুদ্ধে এবং সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট থেকেই সমাজের সব ধরনের অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার শিক্ষা পাওয়া যায়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও তাৎপর্যপূর্ণ এই দিনটি সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা যোগায়। আলোচনা সভা শেষে তিনি ফিতা কেটে জন্মাষ্টমীর একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ র্যালির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, যা পরে জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের কথা উল্লেখ করে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান যে, তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির আদর্শ ধারণ করে দেশ পরিচালনা করছেন। অতীতেও এই আদর্শের মাধ্যমেই দেশের সব মানুষকে একটি সুদৃঢ় ঐক্যের সুতোয় বাঁধার চেষ্টা করা হয়েছে এবং বর্তমানেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমাজকে একটি উন্নত জীবনযাপনের উপযোগী, মানবিক এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ নিরলসভাবে চলছে। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কেবল একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী জানান যে, তারা কিছুদিন আগে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবং এই অল্প সময়ের মধ্যে সমাজে শতভাগ পরিবর্তন আনা বা সব অপরাধ চিরতরে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে তাদের সরকারের সদিচ্ছা এবং মহৎ উদ্যোগের কোনো ঘাটতি নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন যে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, বাফুফের সহসভাপতিসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সামাজিক-ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।