ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দেহন গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে রাতের আঁধারে বেশ কয়েকটি কঙ্কাল চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা কবরগুলো খুঁড়ে এই মানব কঙ্কালগুলো নিয়ে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়দের ধারণা। সকালে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা সকালে দৈনন্দিন কাজের অংশ হিসেবে কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অদ্ভুত কিছু দেখতে পান। তারা খেয়াল করেন যে কবরস্থানের বেশ কয়েকটি কবর খোঁড়া অবস্থায় রয়েছে এবং মাটির উপরে দাফনের কাপড় পড়ে আছে। পরে তারা গাণিতিক হিসাব করে নিশ্চিত হন যে সেখানে মোট পাঁচটি কবর খুঁড়ে মৃতদেহগুলোর কঙ্কাল চুরি করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি কবর ছিল পাশাপাশি এবং বাকি দুটি ছিল কিছুটা দূরত্বে।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার খবর দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মৃত ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয় জনতা কবরস্থানে ভিড় জমান। পরে শোকার্ত স্বজনরা এবং স্থানীয়রা মিলে অত্যন্ত মর্মাহত হৃদয়ে খোঁড়া কবরগুলো আবার মাটি দিয়ে ঢেকে দেন। মৃতদের প্রতি এমন অসম্মান ও কঙ্কাল চুরির এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এলাকার বাসিন্দা কাউসার রহমান দুলাল ও আব্দুল জলিলসহ অনেকেই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কবরস্থানের মতো পবিত্র স্থানে এমন ধৃষ্টতাপূর্ণ অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য তারা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এদিকে ঘটনার কথা জানতে পেরে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে একটি দল পাঠায়। স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজাহান আলী গণমাধ্যমকে জানান যে পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।