দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিকল্পিতভাবে ভুয়া তথ্য, ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি রাজধানীর কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। যদিও প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে সুনির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বা চরমপন্থী মতাদর্শের বহিঃপ্রকাশের বদলে এক ধরণের অপেশাদার সাইবার প্রতারণা বা চাঁদাবাজির প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযুক্ত ইমেইলগুলো ভুয়া এবং অনিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঘটনার পর থেকেই কূটনৈতিক এলাকা বারিধারা ও গুলশানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী বিকাশ নম্বরগুলোর সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেছে, প্রতারকরা সাধারণ ও নিরীহ মানুষের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে এই আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। আন্তর্জাতিক আইন বা ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব, যা সরকার যথাযথভাবে পালন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এমন অপপ্রচার চালানো হয়। তবে এই ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী। গুজবের বিস্তার রোধে সরকারি প্রচারণার পাশাপাশি মূলধারার গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের উচিত দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের মাধ্যমে বিভ্রান্তি দূর করা এবং এই ধরণের সাইবার অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা।