দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে সম্প্রতি বিডা, বেজা এবং পিপিপিএ-কে একীভূত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ গঠনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা মূলত একটি সাংগঠনিক পরিবর্তন। তবে শুধু প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম পরিবর্তন বা কাঠামো পুনর্গঠন করলেই দেশে বিনিয়োগ বাড়বে না বলে মনে করছেন বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে হলে প্রতিষ্ঠানের চেয়েও জরুরি হলো বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান জটিলতাসমূহ দূর করা।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জমি প্রাপ্তি, ইউটিলিটি সেবা, কাস্টমস প্রক্রিয়া, অর্থ লেনদেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং সার্টিফিকেশনের মতো জটিল বিষয়গুলো এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে। ড. জাহিদ হোসেনের মতে, সাংগঠনিক পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কার্যকর ‘কালচারাল চেঞ্জ’ বা সাংস্কৃতিক রূপান্তর প্রয়োজন। যদি নতুন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় না থাকে এবং আলাদা আলাদা ক্ষমতার বলয় তৈরি হয়, তবে একীভূতকরণ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।
নতুন এই উদ্যোগের সাফল্যের মাপকাঠি হওয়া উচিত বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কতটা কমল, সেবার মান কতটুকু ডিজিটালাইজড হলো এবং প্রকৃত বিনিয়োগের পরিমাণ কতটুকু বাড়ল। শুধু কাঠামো পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ না দিয়ে বরং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যমান আইনি ও প্রক্রিয়াগত সংস্কারের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।