শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন

সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা চরম অজ্ঞতা ও নারীবিদ্বেষের পরিচায়ক: বিশ্লেষকরা

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৮ Time View
42

মোঃ মাইনুল হক (নীলফামারী)

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের অবমূল্যায়ন বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করাকে চরম অজ্ঞতা, সংকীর্ণ মানসিকতা এবং নারীবিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিহিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সংবিধানে প্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্যদের মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা সম্পূর্ণ সমান।

সংবিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিরা জাতীয় সংসদের সম্মানিত আইনপ্রণেতা। তাদের হেয় প্রতিপন্ন করার অর্থ হলো দেশের মূল আইনসভা এবং সামগ্রিকভাবে নারী সমাজের রাজনৈতিক অধিকারকে অসম্মান করা।

অজ্ঞতার নেতিবাচক প্রভাব

  • আইনপ্রণেতাদের সাংবিধানিক মর্যাদা ও ভূমিকা সম্পর্কে ভুল ধারণা ছড়ায়।
  • ব্যক্তিগত বা দলীয় ক্ষোভ থেকে পুরো পদটিকে ছোট করার মানসিকতা তৈরি হয়।
  • সমাজে নারী নেতৃত্ব নিয়ে নেতিবাচক বার্তা পৌঁছায়।
  • রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত হয় এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবক্ষয় ঘটে।

সংবিধান ও আইনি দৃষ্টিতে সমমর্যাদা

সংসদীয় গণতন্ত্রের বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্যদের ক্ষমতার ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, সাংবিধানিকভাবে সাধারণ এমপিদের মতোই সমান সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদা ভোগ করেন সংরক্ষিত আসনের নারীরা। সংসদে বিল উত্থাপন, বাজেট আলোচনা এবং ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতার পাশাপাশি বেতন-ভাতা, শুল্কমুক্ত গাড়ি এবং প্লট বরাদ্দের মতো সব সুবিধা তারা সমানভাবে পেয়ে থাকেন।

জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে বিজয়ী হয়ে শপথ নেওয়া জনপ্রতিনিধিদের ভোটের মাধ্যমেই সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হন। সাধারণ এমপিদের মতো তারাও এলাকার বিভিন্ন জনস্বার্থের ইস্যু সংসদে তুলে ধরার অধিকার রাখেন।

আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে ভূমিকা

সাধারণ ও সাংবিধানিক কার্যক্রমে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন:

  • আইন প্রণয়ন: জাতীয় সংসদে বিল পাস, নতুন আইন তৈরি এবং প্রচলিত আইন সংশোধনে ভোটাভুটি ও আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ।
  • সংসদীয় কার্যক্রম: প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কার্যপরিচালনায় অংশ নেওয়া।
  • জাতীয় নীতিনির্ধারণ: দেশের সার্বিক উন্নয়ন, বাজেট আলোচনা এবং জনস্বার্থের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজস্ব মতামত প্রদান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © jago barta
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com