মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ৩৫ বছর বয়সী নাটালি হার্প বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। সম্প্রতি ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ ট্রাম্প ও হার্পের সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। অসফের দাবি, ট্রাম্প তার এই তরুণী সহকারীর সঙ্গে এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়েছেন যা প্রশাসনিক কাজকর্মে প্রভাব ফেলছে। তবে হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করে হার্পকে একজন অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও দক্ষ কর্মী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
ক্যান্সার জয় করার পর ট্রাম্পের ‘রাইট টু ট্রাই’ আইনের সুবাদে নতুন জীবন পাওয়ার দাবি করা নাটালি হার্পের রাজনৈতিক উত্থান বেশ চমকপ্রদ। ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ থেকেই তিনি সাবেক এই প্রেসিডেন্টের অনুগত সমর্থক ও পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ সহকারীতে পরিণত হন। বর্তমানে তিনি হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্টের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন। ট্রাম্প মুদ্রিত তথ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল হওয়ায়, হার্পকে সবসময় একটি বহনযোগ্য প্রিন্টার সাথে রাখতে হয় এবং তিনি সংবাদ বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সারসংক্ষেপ সরাসরি ট্রাম্পের কাছে পৌঁছে দেন, যে কারণে তাকে অনেকে ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা ‘গেটকিপার’ বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর কন্টেন্ট তৈরিতেও নাটালি হার্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিদেশ সফর থেকে শুরু করে ওভাল অফিসের অতি গোপনীয় বৈঠকে তার সরব উপস্থিতি তার ক্রমবর্ধমান ক্ষমতার জানান দেয়। তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের গোপন বিমান পরিবর্তনের সময়ও হার্প তার সঙ্গী ছিলেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা হার্পের কর্মজীবন এখন মার্কিন রাজনীতির অন্দরমহলের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে।