ফয়সাল আহমেদ, সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি:
জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সুরক্ষার মহান ব্রত নিয়ে নাটোরের সিংড়ায় স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন জাতের দুই শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সিংড়া স্মার্ট প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় একটি বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার থাওইল চৌপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে পেয়ারা, জাম, কাঁঠাল, হরতকি ও বহেরার মতো বহুমুখী ফলজ, বনজ এবং ঔষধি গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
সিংড়া স্মার্ট প্রেস ক্লাবের সভাপতি খলিল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উক্ত বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল রিফাত। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুমার কুন্ডু। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। ছোট বয়স থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছ লাগানোর ও তার পরিচর্যা করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। আজকের এই ছোট একটি চারা ভবিষ্যতে বড় সম্পদে পরিণত হতে পারে। প্রেস ক্লাবের এই সচেতনতামূলক উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
সংগঠনের সভাপতি খলিল মাহমুদ বলেন, মানবজীবনে গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। নতুন প্রজন্মের মাঝে পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। শিক্ষার্থীরা যদি আজ থেকেই গাছ লাগানো ও তার যত্ন নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলে, তবে আগামীর বাংলাদেশ আরও সবুজ ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কেবল চারা রোপণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না, সেগুলোকে নিয়মিত তদারকি করে বড় করে তোলাও সমান জরুরি।
প্রেস ক্লাবের সদস্য ও সাংবাদিক আশরাফুল সরদার বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ রক্ষার চেতনা তৈরি করা গেলে তার সুদূরপ্রসারী সুফল পাওয়া যাবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও তার লালন-পালন নিশ্চিত করবে—এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা। পরিবেশ সংরক্ষণে গণমাধ্যমকর্মীদেরও সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে, যার অংশ হিসেবেই এই আয়োজন।
আয়োজক কতৃপক্ষ জানান, আগামীতেও শিক্ষার্থীদের পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে এবং সবুজায়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।