নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনা বেগম (৪৫) নামের এক নারীকে সুকৌশলে হত্যার পর পরিচয় ঢাকতে মরদেহে আগুন দেওয়ার লোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে এক সাবেক ইউপি সদস্যসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ধামইরহাট উপজেলার মড়লই গ্রামের সামসুদ্দীনের ছেলে ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. বাবুল হোসেন (৪৯) এবং একই গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. তারেক রহমান (২১)।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ধামইরহাট থানার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর-মাহমুদপুর এলাকার একটি আমবাগান থেকে আগুনে পোড়া এক নারীর অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যেও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের পাশ থেকে কিছু প্রসাধনী ও পরিচয়পত্র উদ্ধার করে। এর কিছুক্ষণ পর নিহতের ছেলে কাউসার আলী থানায় মায়ের নিখোঁজের ডায়েরি করতে এসে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি তার মা মেরিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মেরিনা বেগমের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মেরিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে বাবুল ও তার সহযোগীরা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মেরিনাকে একটি নির্জন আমবাগানে ডেকে নিয়ে গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ লোপাট ও পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও স্থানীয় সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ ও ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টুর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে প্রথমে বাবুল হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুইজনকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেখানো স্থান থেকেই নিহতের জুতার ব্যাগ এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করে পুলিশ সুপার বলেন, নওগাঁয় অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
আরিফুল ইসলাম রনক
নওগাঁ প্রতিনিধি