২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এক কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালে শুরু হওয়া অস্থিরতা ও ‘মব কালচার’ নিয়ন্ত্রণে আশানুরূপ সাফল্য না আসায় জনমনে উদ্বেগ রয়েই গেছে। নতুন নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও অপরাধের ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের কোনো ছেদ পড়েনি, যা পুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানেও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় মাসে সারা দেশে প্রায় এক লাখ মামলা হয়েছে, যা আগের ছয় মাসের তুলনায় প্রায় দশ হাজার বেশি।
অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর পূর্ববর্তী সময়ে হওয়া হামলার বিচারহীনতা এবং বাহিনীর সদস্যদের মনোবল কমে যাওয়া অপরাধ বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ছিনতাই ও গ্যাং কালচারের বিস্তার জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পুলিশের সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা এক জেলায় অপরাধ করে অন্য জেলায় গা-ঢাকা দেওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্র নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও, বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনীতিকরণের ঊর্ধ্বে রাখা, পুলিশের মনোবল বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা দূর করা। পাশাপাশি, অপরাধ দমনে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।